সর্বশেষ সংবাদ:
ধোবাউড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভোগান্তির চিত্র পরিবর্তনে দ্রুত রাস্তার কাজ করাচ্ছেন সাংসদ জুয়েল আরেং ধোবাউড়ায় গৃহবধুর ইজ্জতের মুল্য পঁচিশ হাজার টাকা ধোবাউড়ায় ১কেজি গাঁজা এবং প্রাইভেটকারসহ ৩জন আটক করেছে থানা পুলিশ ধোবাউড়ায় ইসলাহুল উম্মাহ ফাউন্ডেশনের শীতবস্ত্র বিতরণ ধোবাউড়ায় বর্ণিল আয়োজনে বড়দিন উদযাপন ধোবাউড়ায় কলসিন্দুর বাজার বণিক সমিতির আহ্বায়ক কমিটি গঠিত মোঃ ইসরাফিল হোসেন কে পাওয়া যাচ্ছে না ধোবাউড়ায় বেস্ট লাইফ ইন্স্যুরেন্স লিঃ এর মৃত্যুর দাবীর চেক হস্তান্তর ও উন্নয়ন সভা অনুষ্ঠিত ধোবাউড়ায় আদালতের নিষেধাজ্ঞা অমান্য করে ঘর নির্মাণের অভিযোগ ধোবাউড়ায় শুভ বড়দিন উপলক্ষে খ্রীষ্টান ধর্মালম্বীদের মাঝে চেক বিতরণ

প্রণোদনা বড়রাই পেয়েছে বেশি, ছোটদের ভাগে কম

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ- করোনা মহামারির আঘাতে বিশ্ব অর্থনীতির মতো বাংলাদেশের অর্থনীতিতেও ‘বড় সংকট’ উত্তরণে সরকার ২১টি প্রণোদনা প্যাকেজ ঘোষণা করে। তবে কোনোটাই শতভাগ বাস্তবায়ন হয়নি। চলতি ডিসেম্বর মাসে এসব প্যাকেজের ৯০ শতাংশ বাস্তবায়নের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সম্প্রতি এ বিষয়ক সংলাপ অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর বলেন, চলতি ডিসেম্বরের মধ্যেই ৯০ শতাংশ প্রণোদনা বাস্তবায়ন করতে হবে। কিন্তু বাস্তবে সেটি কতটা সম্ভব তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেছেন সংশ্লিষ্টরা। সম্প্রতি অর্থ মন্ত্রণালয় আয়োজিত এ বিষয়ক তিনটি সিরিজ বৈঠকে নীতিনির্ধারণী মহল, দাতা সংস্থা, অর্থনীতিবিদ, ব্যাংকার ও ব্যবসায়ী নেতাদের কাছ থেকে ১৩ দফা সুপারিশ পাওয়া গেছে। পাশাপাশি চিহ্নিত হয়েছে প্রণোদনার সুষ্ঠু বাস্তবায়নে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আস্থাহীনতাসহ পাঁচটি বড় বাধা।
সূত্রে প্রকাশ, প্যাকেজগুলো মূলত দুভাবে বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। প্রথমত, বাজেট বরাদ্দ থেকে। দ্বিতীয়ত, বিশেষ বরাদ্দ থেকে। ২১ প্যাকেজের ১৪টির ক্ষেত্রেই সরকার বাজেট বরাদ্দ থেকে অর্থ ব্যবহার করেছে। এতে ৩৩ হাজার ৬০০ কোটি টাকা ব্যয় হয়েছে। বাকি ৭টি বাস্তবায়ন হয় ব্যাংক-ব্যবস্থা থেকে। প্রণোদনা প্যাকেজের ৫৬ শতাংশ ঋণ বিতরণ হয়েছে। এখনো ৬৬ হাজার ৬৬৫ কোটি টাকার বিতরণ বাকি।
মন্ত্রণালয়ের প্রতিবেদনে, প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নের অগ্রগতি পর্যালোচনায় দেখা যায়, তৈরি পোশাক খাতের ৩৫ লাখ শ্রমিকদের বেতন দেয়ার জন্য ৫ হাজার কোটি টাকা দেয়া হয়। ক্ষতিগ্রস্ত শিল্প ও সেবা প্রতিষ্ঠানের ৪০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে গত অক্টোবর পর্যন্ত ২৮ হাজার ৩৩৮ কোটি টাকার ঋণ দেয়া হয়েছে। ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্পোদ্যোক্তাদের (সিএমএমএমই) জন্য ৩০ হাজার কোটি টাকা প্রণোদনা প্যাকেজ থেকে গত নভেম্বর পর্যন্ত ৪৯ শতাংশ ঋণ ছাড়ের অনুমোদন হয়েছে। মোট ৬১ হাজার ৯১৩ জন সুবিধাভোগী এসব ঋণ পেয়েছেন। কৃষি খাতে গত নভেম্বর পর্যন্ত ২ হাজার ৬৮০ কোটি টাকার ঋণ অনুমোদন হয়েছে। বিতরণ হয়েছে ৫১ দশমিক ০৩ শতাংশ। ছোট ব্যবসায়ী ও পেশাজীবী কৃষকদের জন্য ছাড় অনুমোদন হয়েছে ১ হাজার ৮৪২ কোটি টাকা। বিতরণে অগ্রগতি ৩২ শতাংশ।
ব্যবসায়ীদের শীর্ষ সংগঠন এফবিসিসিআই প্রেসিডেন্ট শেখ ফজলে ফাহিম এ নিয়ে বলেন, সরকারের প্রণোদনা প্যাকেজ সময়োপযোগী হলেও এতে বড় উদ্যাক্তাদের ভাগ ছিল বেশি। ব্যাংকগুলো ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের ঋণ দিতে অনীহা প্রকাশ করায় মূলধন হারিয়ে ব্যবসা নতুন করে শুরু করতে পারছেন না তারা। অনেকেই ঝরে পড়ছেন। গবেষণা সংস্থা সানেমের নির্বাহী পরিচালক ড. সেলিম রায়হানের মতে, প্রণোদনা ঘোষণা করলেও তা সবাই পায়নি। বড়রা পেলেও অনেক ক্ষেত্রেই বঞ্চিত ছোটরা। বিভিন্ন জরিপেও এটা উঠে এসেছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির বলেন, সাতশ ক্ষুদ্রঋণ প্রতিষ্ঠানের মধ্যে বড় কয়েকটি ছাড়া, বাকিরা ঋণ ছাড়ে আগ্রহী না। তারা মাঠপর্যায়ে ঋণ দিচ্ছে ২০ শতাংশ সুদে। বিপরীতে প্রণোদনার ঋণের সুদ মাত্র ৯ শতাংশের মধ্যে। ফলে ঋণ দিতে খুব একটা উৎসাহী নয় তারা। জানতে চাইলে সিপিডির সিনিয়র ফেলো মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, করোনাকালে গ্রামীণ অর্থনীতি, বিশেষ করে কৃষি খাতই আমাদের বাঁচিয়ে রেখেছে। কিন্তু সরকারের প্রণোদনার ঋণ পাওয়ার ক্ষেত্রে কৃষক, প্রান্তিক উদ্যোক্তারা সবচেয়ে পিছিয়ে রয়েছেন। তাদের হাতে টাকা পৌঁছানো না গেলে কর্মসংস্থান হবে কীভাবে। জিডিপি আসবে কোত্থেকে?
প্যাকেজ বাস্তবায়নে বাধা ও সুপারিশ : বৈঠকে প্রণোদনা প্যাকেজ বাস্তবায়নে প্রধান বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয় রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকের আস্থাহীনতা। এছাড়া রয়েছে ঋণ বিতরণ প্রক্রিয়ায় জটিলতা ও অস্বচ্ছতা। প্যাকেজ দ্রæত বাস্তবায়নে যেসব সুপারিশ করা হয় সেগুলো হচ্ছে কাজের অগ্রগতি ‘তৃতীয় পক্ষ’ দিয়ে মূল্যায়ন, এসএমই খাতে আরো সহায়তা দেয়া, ক্ষুদ্র উদ্যোক্তাদের প্যাকেজের আওতায় নিয়ে আসা। বৈঠকে বাংলাদেশ ও ভুটানে নিযুক্ত বিশ^ব্যাংকের কান্ট্রি ডিরেক্টর মিস মার্সি মিয়াং টেমবোন বলেন, প্যাকেজ বাস্তবায়নে দুটি দিকে বিশেষ নজর দিতে হবে; প্রথমত রপ্তানি খাতের শ্রমিকদের এবং দ্বিতীয়ত এসএমই খাতের উদ্যোক্তাদের। এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকে (এডিবি) কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন বলেন, অর্থ সরবরাহ আরো বাড়াতে হবে। দুর্বল অবকাঠামো চিহ্নিত করে সংস্কার করতে হবে। এ সময় সরবরাহ ব্যবস্থা ঠিক রাখতে হবে। আর ইউরোপীয় ইউনিয়নের রাষ্ট্রদূত মিস. রেন্সজে তেরিংক বলেন, করোনা ভাইরাস শ্রমবাজারে কর্মহীন হয়ে পড়েছে অনেকে। এক্ষেত্রেও সহায়তা বাড়াতে হবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category