সর্বশেষ সংবাদ:
অন্ধকার জগতের আরও চাঞ্চল্যকর তথ্য দিলেন ডিজে নেহা ময়মনসিংহে ইসলামিক ফাউন্ডেশন মউশিক শিক্ষক কল্যাণ পরিষদের বিভাগীয় কমিটি গঠন ধোবাউড়ায় ডি,পি,এল কোয়ালিফায়ার-২ খেলা অনুষ্ঠিত রফিক হাসান সভাপতি ও হারুনকে সাধারণ সম্পাদক করে কমিটি গঠন ধোবাউড়ায় ব্যাডমিন্টন খেলার আয়োজন করলেন মেম্বার পদ প্রার্থী মোঃ কামাল হোসেন ধোবাউড়ায় শত্রুতার জেরে বাড়িঘরে আগুন ও মারধোর করার অভিযোগ পথকলি শিশুদের ভরসার আরেক নাম “পথের ইশকুল” ধোবাউড়ায় যোগাযোগ ব্যবস্থায় ভোগান্তির চিত্র পরিবর্তনে দ্রুত রাস্তার কাজ করাচ্ছেন সাংসদ জুয়েল আরেং ধোবাউড়ায় গৃহবধুর ইজ্জতের মুল্য পঁচিশ হাজার টাকা ধোবাউড়ায় ১কেজি গাঁজা এবং প্রাইভেটকারসহ ৩জন আটক করেছে থানা পুলিশ

তিন শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফের কয়লা আমদানি শুরু

ষ্টাফ রিপোর্টারঃ- আইনি জটিলতা, ভারতের পরিবেশ আদালতে মামলা এবং করোনা দুর্যোগসহ বিভিন্ন কারণে বন্ধ থাকা তাহিরপুর উপজেলার বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন দিয়ে ফের শুরু হয়েছে কয়লা আমদানি। অক্টোবরের শেষের দিকে ভারত থেকে বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন দিয়ে কয়লার ট্রাক প্রবেশ করে বাংলাদেশে। এদিকে আবারো কয়লা আমদানি শুরু হওয়ায় বাগলি, চারাগাঁও ও বড়ছড়ার ৩ শুল্ক স্টেশনে কর্মরত কয়েক হাজার শ্রমিকের মধ্যে ফিরেছে প্রাণচাঞ্চল্য। তবে আগের মতো টানা আমদানি কার্যক্রম স্বাভাবিক রাখার দাবি জানিয়েছেন এসব শ্রমিক। নতুন করে আবার কয়লা আমদানি শুরু হওয়ায় চোখে আশার আলো দেখছেন তারা।

জানা গেছে, ১৯৯১ সালে বড়ছড়া, চারাগাঁও, বাগলি শুল্ক স্টেশন দিয়ে ভারত থেকে কয়লা আমদানি শুরু হয়। এর মধ্যে প্রথম কয়লা আমদানি শুরু হয় বড়ছড়া শুল্ক স্টেশন দিয়ে। পরবর্তী সময়ে বাগলি ও চারাগাঁও দিয়ে শুরু হয় আমদানি। এছাড়া তিনটি স্টেশন দিয়ে বিভিন্ন সময় চুনাপাথরও আমদানি হয়। অনুন্নত এলাকায় কয়লা আমদানি শুরু হওয়ায় বিরাট আর্থ-সামাজিক পরিবর্তন ঘটে। কর্মসংস্থানের সৃষ্টি হয় প্রায় ৩০ হাজার শ্রমিকের। স্থানীয়দের জীবনমানের উন্নয়ন ঘটে। এভাবে কয়েক বছর টানা আমদানি হয় কয়লা ও চুনাপাথর।

তবে ২০০০ সালের পর ভারতের মেঘালয়ের আদিবাসী সমাজ অপরিকল্পিতভাবে কয়লা খনন ও ভারতের ইউরোনিয়াম খনি খননের নামে পাহাড় খননের প্রতিবাদে আন্দোলন শুরু করে। এ আন্দোলনের ফলে ভারতীয় আদালতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মামলা হয়। মামলায় আদিবাসীদের পক্ষে রায় দেয় আদালত। ফলে বন্ধ হয়ে যায় কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি। বিপাকে পড়েন তিনটি শুল্ক স্টেশনের প্রায় ৮ শতাধিক আমদানিকারক ও ৩০ হাজার শ্রমিক।

মেঘালয়ে অপরিকল্পিতভাবে কয়লা ও চুনাপাথর উত্তোলন ও রপ্তানির কারণে এই এলাকার পরিবেশের বিপর্যয় ঘটছে, এমন অভিযোগে সেখানকার পরিবেশবাদী সংগঠন এনজিপি (ন্যাশনাল গ্রিন ট্রাইব্যুনাল) এই অভিযোগ করেছিল। ২০১৪ সালের ১৯ এপ্রিল ভারতীয় আদালতে পরিবেশ বিপর্যয়ের মামলার পরিপ্রেক্ষিতে মেঘালয় রাজ্যে কয়লা ও চুনাপাথর রপ্তানিতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। এভাবে আদালতের নিষেধাজ্ঞার কারণে নিয়মিত কয়লা ও চুনাপাথর আমদানি সম্ভব হচ্ছিল না। মাঝেমধ্যে শর্ত দিয়ে কয়েক মাসের জন্য আমদানি শুরু হলেও স্টেশনগুলো আগের মতো মুখর নেই। আদালত মেঘালয় সরকারকে পরিবেশ বিপর্যয় ও ক্ষতিপূরণ প্রদানের নির্দেশ দিয়েছিল। ক্ষতিপূরণ না দেয়ায় আদালত বিভিন্ন সময় ভারত থেকে বাংলাদেশে কয়লা রপ্তানির ওপর নিষেধাজ্ঞা দেয়। এভাবে গত এক দশক ধরে অনিয়মিতভাবে আমদানি হচ্ছে কয়লা ও চুনাপাথর। ফলে এই স্টেশনগুলোর আমদানিকারকরা ইন্দোনেশিয়া বা অন্যান্য দেশ থেকে কয়লা আমদানির দিকে ঝুঁঁকে পড়েন। এতে স্থবির হয়ে পড়ে স্টেশনগুলো। বেকার হয়ে পড়েন হাজার হাজার শ্রমিক।

এদিকে ভারতীয় কয়লায় সালফার জটিলতার কারণেও ২০১০ সালে বাংলাদেশ সরকার কিছুদিন কয়লা আমদানি স্থগিত করেছিল। ভারতীয় কয়লায় এক ভাগের বেশি সালফার থাকায় বিভিন্ন পরিবেশবাদী সংগঠনের প্রতিবাদের কারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ২০১০ সালের জুন মাসে আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে। অবশ্য পরবর্তী সময়ে এ নিষেধাজ্ঞা তুলে নেয়া হয়। এভাবে বারবার নিষেধাজ্ঞার ফলে ক্ষতির মুখে পড়েন আমদানিকারকরা।

এ ব্যাপারে তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ সমিতির সাধারণ সম্পাদক মোশারফ হোসেন বলেন, দুদেশের সরকারের মধ্যে আলাপ-আলোচনার মধ্য দিয়ে কয়লা পুরোপুরি আমদানি করার একটা সিদ্ধান্ত নিলে ব্যবসায়ীরা উপকৃত হবে। অন্যদিকে সরকারও পাবে বিপুল রাজস্ব।

তাহিরপুর কয়লা আমদানিকারক গ্রুপ সমিতির সভাপতি আলকাছ উদ্দিন খন্দকার বলেন, নানা জটিলতার পাশাপাশি করোনার কারণেও আমাদের স্টেশনগুলো বন্ধ ছিল। সম্প্রতি আবার চুনাপাথর ও কয়লা আমদানি শুরু হয়েছে। রপ্তানিকারকরা যদি নিয়মিত আমাদের চাহিদা পূরণ করে পণ্য পাঠাতে পারেন তবে রাজস্ব বৃদ্ধির পাশাপাশি স্টেশনগুলো আবারো কর্মচাঞ্চল্য হয়ে উঠবে। ব্যবসায়ীদের সঙ্গে উপকৃত হবেন শ্রমিকরাও।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে বড়ছড়া কাস্টম অফিসার সুদীপ্ত শেখর দাস ভোরের কাগজকে বলেন, গত এক দশক ধরে সুনামগঞ্জের তিনটি শুল্ক স্টেশন দিয়ে অনিয়মিত আমদানি হচ্ছে। এতে রাজস্ব কমে গেছে। তাছাড়া বেকার হয়ে পড়েছেন শ্রমিকরা। এর ফলে বড় ক্ষতির মুখে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। এখন অল্প পরিমাণে হলেও কয়লা আমদানি হচ্ছে।

তিনি বলেন, আমদানিকৃত এই কয়লার এলসি পুরনো। তবে নতুন করে আমদানি কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে সবকিছু আগের রূপে ফিরবে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category