যুদ্ধে হেরে ঘর-বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছে আর্মেনীয়রা (ভিডিও সহ)

স্টাফ রিপোর্টারঃ 

মুসলিম অধ্যুষিত রাষ্ট্র আজারবাইজানের সঙ্গে খ্রিস্টান অধ্যুষিত দেশ আর্মেনিয়ার চলমান যুদ্ধে প্রাণ হারাচ্ছেন সাধারণ মানুষও। গুলি ও বোমায় বিধ্বস্ত নাগোরনো-কারাবাখে বসবাসরত সাধারণ আর্মেনীয়রা এবার বাড়ি ছেড়ে পালাতে শুরু করেছেন।

যুদ্ধ বন্ধের এখনো কোনো ইঙ্গিত নেই। ১২ দিনে প্রবেশ করল বিতর্কিত নাগোরনো-কারাবাখ নিয়ে আর্মেনিয়া ও আজারবাইজানের যুদ্ধ। এরই মধ্যে আর্মেনিয়ার মদতপুষ্ট কারাবাখের বিচ্ছিন্নতাবাদীরা জানিয়েছে, তাদের প্রধান শহর স্টেপানাকার্তে বসবাসরত অর্ধেকরও বেশি আর্মেনীয় এখন গৃহহীন।


অন্যদিকে যুদ্ধ বন্ধের জন্য আবারও সরব হয়েছে রাশিয়া, ফ্রান্স ও আমেরিকা। ন্যাটোর পক্ষ থেকেও দ্রুত যুদ্ধ বন্ধ করে শান্তি আলোচনার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে। যদিও কোনো দেশই এখনো লড়াই থামানোর ইঙ্গিত দেয়নি।


এ দিকে কার্যত ধ্বংসাবশেষে পরিণত হয়েছে কারাবাখের মূল শহর। আর্মেনিয়ার মদতপুষ্ট সেখানকার বিচ্ছিন্নতাবাদীদের বক্তব্য, আজারবাইজানের সেনাবাহিনীর তীব্র আক্রমণে হাজার হাজার আর্মেনীয় বাড়ি ছেড়ে পালাচ্ছেন।


শহর জুড়ে পড়ে রয়েছে বোমা। বহু বোমা না ফাটা অবস্থায় রাস্তায় ছড়িয়ে রয়েছে। যখন তখন বিস্ফোরণের আশঙ্কা। বহু বাড়ি বোমার আঘাতে ভেঙে পড়েছে। ধ্বংসস্তূপ ঘেঁটে প্রয়োজনীয় জিনিস সংগ্রহ করে পালাচ্ছেন সাধারণ আর্মেনীয়রা।


আর্মেনিয়ার হিসেব অনুযায়ী, নাগোরনো-কারাবাখে প্রায় সামরিক-বেসামরিক মিলিয়ে তিন শতাধিক লোকের মৃত্যু হয়েছে। তবে বিশেষজ্ঞদের বক্তব্য, মৃতের সংখ্যা আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। তারই মধ্যে যুদ্ধ অব্যাহত। আর্মেনিয়া এখনো আজারবাইজানের বিভিন্ন শহরে গোলাবর্ষণ করছে। যার প্রেক্ষিতে আজারবাইজানও গোলাবর্ষণ চালিয়ে যাচ্ছে।


ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরান আগেই জানিয়েছিল, যেভাবে দুই দেশের মধ্যে যুদ্ধ শুরু হয়েছে, তাতে যে কোনো দিন তা আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে। দুই দেশের যুদ্ধে অন্য দেশের যোদ্ধারাও যোগ দিচ্ছেন বলে দাবি তেহরানের।


এমনকি সিরিয়াও ইতোমধ্যেই স্বীকার করেছে যে, তাদের দেশের বেশকিছু যোদ্ধা আজারবাইজানের হয়ে লড়াই করছে। তাছাড়া ইউরোপের মুসলিম রাষ্ট্র তুরস্ক চলমান যুদ্ধে সরাসরি যোগ দিয়েছে বলে অভিযোগ।


এমন পরিস্থিতিতে দ্রুত অবস্থার পরিবর্তনের জন্য বৈঠকে বসতে পারে আমেরিকা, ফ্রান্স ও রাশিয়া। জার্মানিও যুদ্ধ বন্ধের জন্য আবেদন করেছে। জার্মান পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাইকো মাস এ বিষয়ে জার্মান পার্লামেন্টেও আলোচনা করেছেন।

J/S-03

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category