ট্রাম্প এবং ভাঙ্গা বাবার ভবিষ্যৎবাণী

অনলাইনঃ-বাবা তো বাবা, তা আবার ভাঙ্গা বাবা। সেই বাবা আবার আসলে বাবা নন। কারণ তিনি একজন নারী। এর উপরে তিনি চোখে দেখেন না। তার মানে তার রয়েছে অলৌকিক ক্ষমতা। চোখ থাকতেও কত লোক অন্ধ। তিনি চোখ না থাকতে সব দেখতে পান। সুপার পাওয়ার তার।

কে জানে তিনি হয়তো তিনকাল দেখতেন! ছিলেন ত্রিকালদর্শিনী।

ট্রাম্পের জন্য এরকম একজন ‘বাবা ভাঙ্গা’ই সম্ভবত বাকি ছিলেন। কী দুর্ভাগ্য বেচারা ট্রাম্প এবং তার সমর্থকদের। ভাঙ্গা বাবা ১৯৯৬ সালে মারা যাওয়ার আগে ভবিষ্যৎবাণী করেছিলেন, ২০২০ সালে যিনি আমেরিকার প্রেসিডেন্ট হবেন, তার কপালে দুর্ভোগ আছে। তার দুরারোগ্য ব্যধি হবে। এরপর তিনি বধির হবেন । তার মস্তিষ্কে টিউমার হবে।
আর সেই প্রেসিডেন্ট কিনা হলেন মি. ট্রাম্প। এবং সেটিও আবার নির্বাচনকে সামনে রেখে।
সেদিক থেকে নির্বাচনী প্রচারণায় তুঙ্গে থাকা ট্রাম্পের জন্য এবার যেন ষোলোকলা (নেতিবাচক অর্থে) পূর্ণ হলো। অবশ্য করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হওয়াটাকে এই মুহুর্তে অন্তত তার ভক্তরা বলতে চাইবেন না যে, ভাঙ্গা নামের লেডি বাবার কথিত ভবিষ্যৎবাণী প্রকাশ ঘটা তাদের জন্য ভালো হয়েছে। বরং ‘এক রহস্যজনক রোগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ২০২০ সালেই আক্রান্ত হবেন’, এমন ভবিষ্যৎবাণী , সেটা ট্রাম্পের নির্বাচনী ভাবমূর্তির জন্য ভয়ানক ক্ষতিকর হলো বটে।
বাবা ভাঙ্গা নামটি শুনলেই মনে হবে, বাড়ি তার নিশ্চয়ই বাংলাদেশে হবে। না হলে তার বাড়ি নিশ্চয় দক্ষিণ এশিয়ার কোথাও হবে। কিন্তু তা নয়। তার বাড়ি কিনা, সেই ইউরোপের হার্টে। বুলগেরিয়ায়। বাবার বাড়ি বুলগেরিয়া।
তো বাবা ভাঙ্গা একজন জ্যোতিষী। তিনি সেই জগতখ্যাত ‘ নস্ট্রাডমাস অব দ্য বলকানস বা বলকানের নস্ট্রাডমাস হিসেবে খ্যাতিমান এই ভাঙ্গা।’
বিলাতি ট্যাবলয়েড দ্য মিরর এক রিপোর্টে(Blind mystic Baba Vanga predicted Donald Trump’s coronavirus plight, claim fans) বলেছে, অনেক আগেই এই ভাঙ্গা বাবা নস্ট্রাডমাসের মতো জনপ্রিয় হয়ে উঠছেন।
অনেকে বলেন, তিনি নসট্রাদামুস বা মিশেল দ্য নোস্ত্রদাম । ১৫৬৬ সালে এই ফরাসি জ্যোতিষী মারা যান। তিনি ছিলেন লেখক ও ঔষধ প্রস্তুতকারক এবং চিকিৎসা সামগ্রী বিক্রেতা। তিনি তার লিখিত ভবিষ্যৎবাণীসমূহ প্রকাশ করে বিশ্বব্যাপী বিখ্যাত হয়ে উঠেন। তিনি অতিপরিচিত, তার দ্য প্রফাসিস বইয়ের জন্য, যা ১৫৫৫ সালে প্রথম সংস্করণ করা হয়। এই বই প্রকাশের পরে যা তার মৃত্যুর পরে খুব কমই ছাপানো হয়েছে। নসট্রাদাম সংবাদপত্রের দৃষ্টি আকর্ষণ করে এবং বিশ্বের অনেক উল্লেখযোগ্য ঘটনার ভবিষ্যৎবাণীর জন্য তাকে বিখ্যাত করে তুলে।
বেশিরভাগ একাডেমিক উৎস সমর্থন করে যে, বিশ্বের ঘটনাসমূহ এবং নসট্রাদামসের চতুষ্পদী পদ্যের সংশ্লিষ্টতা মূলত ব্যাখ্যার ভুল বা অনুবাদের ভুল (কখনও কখনও ইচ্ছাকৃত) অথবা এগুলোকে নিরর্থক হ্মীণ করা হয়েছে যা কোন প্রকৃত ভবিষ্যৎবাণীপূর্ণ ক্ষমতার প্রমাণ দেয়।

তবে বুলগেরিয়ার অন্ধ বাবার ভবিষ্যদ্বাণী এই মুহুর্তে ডেমোক্র্যটরা লুফে নিয়েছন। বাবা মুসলিম হলে এর হয়তো গুরুত্বই থাকতো না। কিন্তু এ তো অমুসলিম বাবা।
উল্লেখ্য, গত ২ অক্টোবর নিশ্চিত করা হয় যে, ট্রাস্প ও তার স্ত্রী মেলিনা ট্রাম্প করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন। নির্বাচান খুব কাছে। বাবা আরো সাংঘাতিক কথা বলেছেন। তার দাবি, শুধু কোভিড-১৯ নয়, তিনি বধির হবেন। তার মস্তিষ্কে টিউমার হবে।


এরকম অবস্থায় বাবার বিষয়টি আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় জায়গা পাওয়াটিই একটি ধ্বস। এর আগে বাবা ব্রেক্সিট, নাইন ইলেভেন এবং থাইল্যান্ডের সুনামি বিষয়ে পূর্বাভাস দিয়েছিলেন।
আরো বিস্ময়কর হলো, এই বাবা গত হয়েছেন ১৯৯৬ সালে। মৃতুর আগ পর্যন্ত তিনি ভবিষ্যৎবাণী করেই যাচ্ছিলেন।
বর্তমান মেসিডোনিয়া অঞ্চলে ওই নারী বেড়ে ওঠেন। ধূলো ঝড়ের কবলে পড়ে তিনি চোখ হারান।
তবে তার ভক্তরা বলেছেন, এই অন্ধ হয়ে যাওয়াটাই তার জন্য শুভ হয়। তার দিব্য চোখ খুলে যায়। তার কতগুলো ভবিষ্যদ্বানী রয়েছে, যা খুব মিলে গেছে।
১৯৮৯ সালে তিনি বলেছিলেন: ভয়ংকর , ভয়ংকর! ইস্পাতের পাখি দ্বারা আঘাতে মার্কিন ভ্রাতারা (টুইন টাওয়ার) ধ্বসে পড়বে। একটা ঝোপঝাড়ে নেকড়ে লুকিয়ে থাকবে। নিরীহ রক্তে ঘাস ভিজবে।’
২০১১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে দুটি বিমানের আঘাতে টুইন টওয়ার এবং ওয়ার্ল্ড ট্রেড সেন্টার বিধ্বস্ত হয়।
বাবা ভাঙ্গা নিজে কখনও তার পূর্বাভাস লিখেননি। এবং তাকে বুলগেরিয় সরকার অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে নিয়েছিল। মারা যাওয়ার আগ পর্যন্ত রাষ্ট্র তার ভরণপোষণ করেছে। তাকে একজন স্থায়ী স্টেনো দেয়া হয়। যারা তার কাছে শুনতে অসতেন , তিনি ফেরাতেন না তাদের। তার কথা বা সাক্ষাৎকার অনুলিখন করে দেয়া হতো।
মিরর প্রতিবেদন অবশ্য লিখেছে, ভাঙ্গা বাবা সর্বদা সমানভাবে সঠিক হয়েছেন, এমন নয়। ২০১৯ সালেও একবার ভাবা হয়েছিল যে, ট্রাম্পের জন্য তার কথা হয়তো ফলে যাচ্ছে। ২০১০ থেকে ২০১৪ সালের মধ্যে একটা পারমাণবিক যুদ্ধের কথাও বলেছিলেন তিনি। সেটা সঠিক হয়নি।
বাবার অতিন্দ্রীয় ক্ষমতা সম্পর্কে রীতিমতো স্টাডি চলে বুলগেরিয়ায়। দি ইনস্টিটিউটস অব সাজেস্টোলজি এন্ড প্যারাসাইকোলজি ইন সোফিয়া এন্ড প্যাট্রিচ-এ তার প্রফেসিসমূহ নিয়ে অধ্যায়ণ চলছে। বাবার এইরকম ভক্তকূলই রটিয়েছে ট্রাম্পকে বিপদে ফেলা ওই ভবিষ্যদ্বাণী।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category