ইভ্যালির অনিয়ম তদন্ত করবে ভোক্তা অধিকার

স্টাফ রিপোর্টারঃ- ই-কমার্স প্রতিষ্ঠান ই-ভ্যালির ব্যাপারে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর ও তদন্ত করার জন্য জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। এ দুটো সংস্থার রিপোর্টের ভিত্তিতে পরবর্তীতে প্রয়োজনীয় প্রদক্ষেপ নেয়া হবে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। আগামী সাতদিনের মধ্যে সংস্থা দুটিকে ই-ভ্যালির বিষয়ে তদন্ত রিপোর্ট জমা দিতে বলা হয়েছে। বাণিজ্যসচিব মো. জাফরউদ্দীন এ তথ্য জানান। এদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ই-ভ্যালির ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী মোহাম্মদ রাসেল বলেন, ব্যাংক হিসাব বন্ধ করার ৫ দিনের মধ্যে সব কাগজপত্র আমরা বাংলাদেশ ব্যাংকে জমা দিয়েছি। তদন্তে কোনো ধরনের অভিযোগ প্রমাণিত হবে না বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

জানা যায়, গত ২৬ আগস্ট ই-ভ্যালির কার্যক্রম খতিয়ে দেখতে তিন সদস্যের একটি কমিটি গঠন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। কমিটি এই সময়ে বিভিন্ন তথ্যউপাত্ত পর্যালোচনা করে দেখে পুরো বিষয়টির সঙ্গে ভোক্তা স্বার্থ জড়িত। এজন্য প্রতিষ্ঠানটির বিষয়ে প্রয়োজনীয় খোঁজখবর ও তদন্ত করার জন্য জাতীয় ভোক্তা সংরক্ষণ অধিদপ্তর ও প্রতিযোগিতা কমিশনকে দায়িত্ব দেয়া হয়। ইতোমধ্যে প্রতিযোগিতা কমিশন প্রতিষ্ঠাকাল থেকে এ পর্যন্ত ই-ভ্যালির লেনদেন, আয়-ব্যয়সহ কোম্পানির বিস্তারিত বিবরণ, ই-ভ্যালির আওতাভুক্ত পণ্যগুলোর বিবরণ, ই-ভ্যালির পণ্যের ভৌগোলিক সীমানার বিবরণ, ই-ভ্যালির মাধ্যমে যেসব ব্যবসাপ্রতিষ্ঠান ব্যবসা কার্যক্রম পরিচালনা করে আসছে, তাদের তালিকা ও ব্যবসায়িক লেনদেনের পদ্ধতি ও শর্তাবলি জানতে চেয়েছে। কমিশন আরো জানতে চেয়েছে, ৮০-১৫০ শতাংশ ছাড় দিয়ে ব্যবসা করার তথ্য, ঈদ ধামাকা অফারের সঙ্গে অন্যান্য অফারের পার্থক্যের বিস্তারিত বিবরণ; ঈদ ধামাকা অফার সময়ের আগের তিন মাসের বিক্রি, আয় ও মুনাফার সঙ্গে অফার চলাকালীন বিক্রি, আয় ও মুনাফার তুলনামূলক বিবরণী। বাণিজ্যসচিব মো. জাফরউদ্দীন বলেন, যেহেতু ই-

ভ্যালির সঙ্গে ভোক্তা স্বার্থ জড়িত তাই ভোক্তাকে দায়িত্ব দেয়া হয়েছে। আশা করছি, যথাসময়ে তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়া যাবে। ইতোমধ্যে ই-ভ্যালির ব্যবসা পদ্ধতি পর্যালোচনা করতে সাত সদস্যের কমিটি গঠন করেছে ই-ক্যাব। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের চার

জন শিক্ষক ও ই-ক্যাবের একজন প্রতিনিধি ও আইনজ্ঞ আছেন এ কমিটিতে। যাদের মধ্যে দুজন পেমেন্ট বিষয়ে, একজন আন্তর্জাতিক ব্যবসায়, একজন ই-কমার্স স্ট্র্যাটিজিস্ট ও একজন ই-কমার্স গবেষক আছেন। ইতোমধ্যে কমিটি দুদফায় কৌশলগত সভা করেছে। আগামী দু-একদিনের মধ্যেই কমিটির সদস্যরা ই-ভ্যালি অফিস পরিদর্শন করবেন। তারপর ই-ভ্যালির সঙ্গে আলোচনা করবেন। আগামী ১০ দিনের মধ্যে কমিটি প্রতিবেদন পেশ করবেন। বিশেষ করে ই-ভ্যালির ব্যবসায় পদ্ধতি, এমএলএম সম্ভাব্যতা, আকর্ষণীয় অফারের আইনগত দিক এবং ক্রেতা-ভোক্তাদের অভিযোগ খতিয়ে দেখবে কমিটি। সার্বিক কাজে কমিটিকে সহযোগিতা করার জন্য ই-ক্যাবের পাঁচ সদস্যের সমন্বয় কমিটি গঠন করা হয়েছে। রিভিউ কমিটির প্রতিবেদনকে যাচাই-বাছাই শেষে পর্যালোচনা কমিটি সরকারের সংশ্লিষ্ট দপ্তরে তা প্রেরণ করবেন।

বৃহস্পতিবার এক অনলাইন সংবাদ সম্মেলনে ই-ভ্যালির এমডি রাসেল বলেন, আমরা সব ধরনের পর্যবেক্ষণকে স্বাগত জানাই। আমাদের আশা কোনো ধরনের অভিযোগ প্রমাণ হবে না। ফলে আমরা দ্বিগুণ শক্তি নিয়ে ফিরে আসব। আমরা আশা করছি ৩০ দিনের নিষেধাজ্ঞা শেষ হওয়ার আগেই ই-ভ্যালির সব ব্যাংক একাউন্ট খুলে দেয়া হবে। মানি লন্ডারিংয়ের বিষয়ে তিনি বলেন, কেউ হয়তো কেন্দ্রীয় ব্যাংকে আমাদের বিরুদ্ধে অভিযোগ দিয়ে থাকতে পারে। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ই-ভ্যালি প্রধান বলেন, আমরা মনে করি না কারো প্রতিহিংসার শিকার হয়েছি। আমাদের ক্যাশব্যাক অফার, প্রবৃদ্ধি, শীর্ষ অবস্থান নিয়ে কারো মনে হয়তো কোনো প্রশ্ন ছিল। সেখান থেকেই এ ঘটনার উৎপত্তি হয়ে থাকতে পারে। আমরা স্বচ্ছতায় বিশ্বাসী। আশা করি এই বিষয়টির একটা চমৎকার সুরাহা হবে।

রাসেল জানান, প্রতিষ্ঠার পর থেকে ই-ভ্যালি ২১ লাখ পণ্য বিক্রি করেছে যার আর্থিক মূল্যমান ১ হাজার ৫০০ কোটি টাকা। ৫ জন কর্মী নিয়ে ই-ভ্যালির যাত্রা শুরু হলেও বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটির কর্মীর সংখ্যা ৭ শতাধিক। তার দাবি, ই-ভ্যালির ৩৭ লাখ গ্রাহক নিয়ে বর্তমানে দেশের ই-কমার্স খাতে এক নম্বর অবস্থানে রয়েছে। তিনি আরো জানান, ই-ভ্যালি বর্তমানে ৪ হাজার কোটি টাকার কোম্পানি। শিগগিরই বিশ্বের বড় বড় প্রতিষ্ঠান থেকে বিশাল বিনিয়োগ ইভ্যালিতে যুক্ত হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।

মোটরবাইক ডেলিভারিতে দেরির বিষয়ে মোহাম্মদ রাসেল বলেন, গত ১২ মাসে বাইক ডেলিভারিতে আমাদের গড় সময় লেগেছে ২৫ দিন। দেশে করোনা প্রাদুর্ভাবের পরে বিশেষ করে এপ্রিল মাসের পর থেকে সরবরাহ ঘাটতির কারণে মোটরবাইক ডেলিভারিতে বেশি সময় লাগছে। এ ছাড়া অনেক সময় মোটরবাইক উৎপাদকরা আমাদের সময়মতো পণ্য ডেলিভারি দিতে পারে না। হয়তো আমরা বিশাল সংখ্যার পণ্যের অর্ডার একসঙ্গে দিয়ে থাকি, এটাও একটা কারণ হতে পারে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category