সর্বশেষ সংবাদ:
কালিয়াকৈরে কারখানার খাবার খেয়ে অর্ধশতাধিক শ্রমিক অসুস্থ ধোবাউড়ায় ১৫ আগষ্ট জাতীয় শোক দিবস পালন উপলক্ষে সদর ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের প্রস্তুতি সভা আমি চেয়ারম্যান হবো নবাবগঞ্জে প্রেমিককে জিম্মি করে প্রেমিকাকে ধর্ষন। গ্রেফতার ৪ ধোবাউড়ায় উপজেলা স্বাস্থ্য-কমপ্লেক্সে জাতীয় পতাকার অবমাননা,সচেতন মহলের তীব্র নিন্দা ভারতে বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে রাম মন্দির স্থাপনের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ জানিয়ে ধোবাউড়ায় মানববন্ধন সিরাজগঞ্জের সলঙ্গায় ৫৬ পিস ইয়াবাসহ আটক ১ ধোবাউড়ায় মাস্ক বিতরণ ও বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আদিবাসী দিবস পালিত ধোবাউড়া উপজেলাকে মাদকমুক্ত করতে যুবকদের খেলাধুলায় মনোনিবেশ করাতে হবে–জালাল উদ্দিন সোহাগ ধোবাউড়ায় দলিল লেখক সমিতির নতুন কমিটি

মৌলভীবাজারে নাগা মরিছ চাষ করে আয় হচ্ছে ১৫ কোটি টাকা

কমলগঞ্জ (মৌলভীবাজার) প্রতিনিধি:-
সিলেট বিভাগের মৌলভীবাজার জেলার কমলগঞ্জ এবং শ্রীমঙ্গল উপজেলার পাহাড়ি টিলায় বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে বোম্বাই মরিছ হিসাবে খ্যাত নাগা মরিছ। নানা জাতের লেবুর পাশাপাশি একই সাথে একই বাগানে নাগা মরিছের চাষ করে লাভবান হচ্ছেন চাষীরা। এ দু’উপজেলার উৎপাদিত ‘নাগা’ মরিচের বাৎসরিক বিক্রয় মূল্য প্রায় ১৫ কোটি টাকা এমন তথ্য সংশ্লিষ্টদের।
স্থানীয় ও দেশ বিদেশের ব্যাপক চাহিদার এ মরিচ ঝাল, ঘ্রাণ আর রং-এই তিন গুণেই আকৃষ্ট করে ভোজন রসিকদের। সিলেট অঞ্চলের ব্যাপক জনপ্রিয় এই ‘নাগা’ মরিচ।
এখানকার নানা জাতের মরিচের মধ্যে ‘নাগা’ স্বাদের চাইতে তার যাদুময়ী ঘ্রাণ আর রং বিমোহিত করে ভোজন রসিকদের। নাগামরিচ শুধু ঝালমুড়ি, ভর্তা, চাটনি, শাক-সবজি কিংবা শুটকির তরকারিতে নয়, এখন নাগামরিচের আচারও ব্যাপক জনপ্রিয় হচ্ছে দিন দিন। দেশের নামি-দামি কোম্পানীগুলোও তৈরি করছে নাগামরিচের আচার, জেলি ও সস। দিন দিন যেমন বাড়ছে নাগা মরিচের চাহিদা। তেমনি স্থানীয়ভাবে বাড়ছে এর উৎপাদনও।
অল্প খরচে স্বল্প জায়গায় কম পরিশ্রমে অধিক লাভজন এ ফসল চাষে এখন ঝুঁকছেন স্থানীয় চাষীরা। স্থানীয় চাহিদার সাথে তাল মিলিয়ে নাগা মরিচের উৎপাদন যেমন বৃদ্ধি পাচ্ছে, তেমনি ধীরে ধীরে দেশের গন্ডি পেরিয়ে এখন বিদেশেও রপ্তানি হচ্ছে। তাই দেশ-বিদেশের চাহিদার যোগান দিতে স্থানীয় কৃষকরা এখন ব্যাপক পরিসরে চাষ করছেন ঝালের রাজা ‘নাগা’ মরিচ।
জেলার ৭টি উপজেলার পাহাড়ি টিলায় দিন দিন নতুন করে বিস্তৃত হচ্ছে ‘নাগা’ মরিচের চাষ। সখের বশে বাড়ির আঙিনা আর ক্ষেতের আইলের চাষকৃত ‘নাগা’ মরিচ এখন পাহাড়ি টিলার বিশাল এলাকাজুড়ে বাণিজ্যিক ভিত্তিতে চাষ হচ্ছে। জেলার কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গল ছাড়াও কুলাউড়া, জুড়ী বড়লেখাসহ অনান্য উপজেলাতে কম-বেশি ‘নাগা’ মরিচ চাষ হলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক পরিসরে চাষ হচ্ছে কমলগঞ্জ ও শ্রীমঙ্গলে। কমলগঞ্জের লাউয়াছড়া জাতীয় উদ্যানের উত্তর-পশ্চিম পাশের (কমলগঞ্জ ইউনিয়নের ৪নং ওর্য়াড এলাকায়) পাহাড়ি এলাকায় ১৫-২০টি লেবু বাগানের সাথে চাষ হচ্ছে ‘নাগা’ মরিচ। ওখানকার চাষী দেলওয়ার হোসেন, এনামুল হক, নাজমুল হক, হেলেনা আক্তার, দিলারা বেগম ও বালিগাঁও’র সানুর মিয়াসহ অনেকেই জানালেন, লেবু বাগানের সাথে তারা চাষ করছেন ‘নাগা’ মরিচ।
প্রতিটি বাগানে ১ হাজার থেকে শুরু করে ১৫-২০ হাজার গাছও লাগানো হয়েছে। তারা জানালেন, লেবু গাছের গোড়া ঠান্ডা রাখতে লেবু গাছের গোড়ার পাশেই রোপণ করা হয় ‘নাগা’ মরিচের গাছ। মরিচ গাছের পাতা ও ডাল-পালা রোদের আলো থেকে রক্ষা করে ঠান্ডা রাখে লেবু গাছকে। আর লেবু গাছের গোড়ায় দেয়া সার, গোবর থেকে খাদ্য পায় মরিচ গাছ। তাই উভয় ফসলই একে অপরের উপকারী হয়ে ভালো ফলন দেয়। ফলে লেবুর পাশাপাশি বাড়তি আয় হচ্ছে ‘নাগা’ মরিচ চাষ করে। কমলগঞ্জের মাধবপুর ইউনিয়নের টিপরাবাড়ী মৌজার মাঝের ছড়া এলাকার বাসিন্দা সাবেক মেম্বার মোঃ হারিছ মিয়া, চাষী লেবু মিয়া, লুৎফুর মিয়া জানান, তাদের এলাকায় কম- বেশি ‘নাগা’ মরিচের চাষ হলেও বাণিজ্যিক ভিত্তিতে ব্যাপক পরিসরে শতাধিক লেবু বাগানের সাথে ‘নাগা’ মরিচের চাষ করা হচ্ছে। শ্রীমঙ্গলের রাধানগর, বিষামণি, মহাজিরাবাদ, ডলুবাড়ি ও ইস্পাহানী, কমলগঞ্জের মাবপুর ইউনিয়নের পদ্মছড়া, পুরানবাড়ী, মাঝের ছড়া, টিলাগাঁও, কমলগঞ্জ সদর ইউনিয়নের বালিগাঁও,সরইবাড়ী,বাঘমারা এলাকা এবং আলীনগর, শমশেরনগর, আদমপুর ও ইসলামপুর ইউনিয়নের বিভিন্ন এলাকায় চাষ হচ্ছে এ জাতীয় মরিচ।
কৃষকরা জানান, শীত ও গ্রীষ্ম উভয় মৌসুমে চাষাবাদ হয় নাগা মরিচ। ফসলের প্রাাথমিক অবস্থায় অল্প বৃষ্টিপাত এবং ফসলের বাড়বাড়তির সময় পরিমিত বৃষ্টিপাত হলে মরিচ খুব ভালো হয়। প্রায় সারা বছর এতে ফলন আসে। প্রাকৃতিক অবস্থা অনুকূলে থাকলে বছরে প্রতি একর জমিতে অন্যান্য ফসলের সঙ্গে উৎপাদিত নাগা মরিচ বিক্রি করে সব খরচ শেষে ৮০ হাজার থেকে লক্ষাধিক টাকা আয় হয়।
জেলার মধ্যে ‘নাগা’ মরিচের সবচেয়ে বড় পাইকারি বাজার শ্রীমঙ্গল। এই বাজারের মজই মার্কেটের ‘নাগা’ মরিচের আড়তদার তুহিন মিয়া জানান, লেবু বাজারের পর দুপুর থেকে বিক্রি চলে ‘নাগা’ মরিচের। হাজার বা বস্তা হিসেবে তারা ‘নাগা’ মরিচ ক্রয়-বিক্রয় করে থাকেন। তারা জানান, মৌসুমে প্রতিদিন শ্রীমঙ্গল বাজারে ৩-৪ লক্ষ টাকার ‘নাগা’ মরিচ বিক্রি হয়। এ অঞ্চলে উৎপাদিত ‘নাগা’ মরিচের দেশ-বিদেশে ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। ক্রেতারা পাইকারি হিসেবে তাদের কাছ থেকে হাজার হাজার ‘নাগা’ মরিচ দেশের নানা স্থানে পাঠানোসহ ইউরোপ, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্র, মধ্যপ্রাচ্যসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশে রফতানি করে থাকেন। বিশেষ করে যুক্তরাজ্যে ‘নাগা’ মরিচের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে ।
সংশ্লিষ্টসূত্রে জানা যায়, সর্বপ্রথম ২০১১ সালে জাপানে মরিচ রপ্তানি শুরু হয়। জাপানের পরে মালয়েশিয়াসহ আরো একাধিক দেশ এতে আগ্রহ দেখিয়েছে। এরপর থেকে ক্রমে রপ্তানির পরিমাণ যেমন বাড়ছে, তেমনি চাষও সম্প্রসারিত হচ্ছে। বাংলা এ্যাগ্রো নামের একটি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান জাপানের ব্যবসায়ীদের চাহিদা অনুযায়ী চাষীদের কাছ থেকে নাগা মরিচ সংগ্রহ করে এবং তাদের নিজস্ব প্রতিষ্ঠানে তা শুকিয়ে গুঁড়া করে প্যাকেটজাত করে রপ্তানি করছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category