সর্বশেষ সংবাদ:

ধোবাউড়ায় ডিলার না হয়েও সার সিন্ডিকেটের হোতা মাজহারুল ইসলাম

ধোবাউড়া প্রতিনিধিঃ
ধোবাউড়ায় ডিলার না হয়েও সার সিন্ডিকেটের হোতা সেজে বসে আছেন ধোবাউড়া বাজারের মাজহারুল ইসলাম নামে এক সার ব্যবসায়ী। মনিটরিং না থাকায় তারা ইচ্ছে মতই বিভিন্ন বাজারের সাব-ডিলার ও কৃষকদের জিম্মি করে অতিরিক্ত টাকায় সার কিনতে বাধ্য করছে। সরকারি নিয়ম মোতাবেক প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে “বিসিআইসি” ডিলার নিয়োগ দেওয়া হয়েছে । ওইসব ডিলারের স্ব স্ব ইউনিয়নেরই ব্যবসা পরিচালনা করার শর্তে তাদের ডিলারশিপ দেয়া হয়েছে, যা হস্থান্তর যোগ্য নয়। কিন্তু ধোবাউড়ার চিত্র ভিন্ন, এখানে প্রতিটি ইউনিয়নে একজন করে “বিসিআইসি” ডিলার নামে মাত্র রয়েছে , তবে দু’একজন ডিলারের ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান আছে। ফলে সার সিন্ডিকেটের মাধ্যমে ধোবাউড়া উপজেলার ৭টি ইউনিয়ন নিয়ন্ত্রণ করছে একা মাজহারুল ইসলাম। জানা গেছে যার কোনো ডিলারশিপ নেই, তবুও তিনি ডিলারশিপের মালিককে ৩০/৪০% লভ্যাংশর বিনিময়ে একাই দুটি প্রতিষ্ঠানের (দাদাভাই এন্টারপ্রাইজ ধোবাউড়া ইউনিয়ন) ও ( আহসান এন্টারপ্রাইজ পোড়াকান্দুলিয়া ইউনিয়ন) এর ডিলারশিপ চালাচ্ছে, যা সরকারি নিয়মে সম্পূর্ণভাবে অবৈধ। সাধারণ কৃষকরা ধারণা করছেন সে সরকারের ভাবমূর্তি নষ্ট করার জন্যই এ অবৈধ সিন্ডিকেট তৈয়ার করেছেন। সরেজমিনে গিয়ে দেখা গেছে, উপজেলার প্রতিটি বাজারে সারের অতিরিক্ত মূল্য। ধোবাউড়ার বিভিন্ন বাজারে গিয়ে দেখাযায় যে সাধারণ কৃষক ডিএপি সারের বস্তা প্রতি সরকার নির্ধারিত মূল্যের চেয়েও ২ থেকে ৩ শত টাকা বেশি দিয়ে ক্রয় করতে বাধ্য হচ্ছেন। যেখানে সরকার নির্ধারিত ডিএপি সারের সর্বোচ্চ খুচরা মূল্য প্রতি বস্তা ৮শত টাকা। ধোবাউড়া বাজার জাহাঙ্গীর এন্টারপ্রাইজ এর পরিচালক জানান আমাদের কিছু করার নেই আমরা দাদাভাই এন্টারপ্রাইজ তথা মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে সার ক্রয় করি, আমাদের ডিএপি (হলুদ বস্তা) ৯৮০ টাকা মূল্যে ক্রয় করতে হয়, সে কারণে আমরা ১০২০ টাকা বিক্রি করছি। আমাদেরকে ডিলাররা যদি বেশি মূল ধরে আমরা কম বিক্রি করবো কিভাবে। একইভাবে দুধনই বাজার ভাই ভাই ষ্টোরের মালিক আলহাজ্ব মোঃ মানিক মিয়া, পোড়াকান্দুলিয়া বাজার মেসার্স খালেক ষ্টোরের পরিচালক আঃ কদ্দুস, পোড়াকান্দুলিয়া বাজার বিক্রম সাহা একি ধরনের কথা বলেন। ঘোষগাঁও বাজার রফিক এন্টারপ্রাইজের পরিচালক অতিরিক্ত মূল্যে সার বিক্রির কারণ জানতে চাইলে তিনি বলেন আমি গতকাল (বুধবার ৮ জানুয়ারি) ধোবাউড়া দাদাভাই এন্টারপ্রাইজ তথা মাজহারুল ইসলামের কাছ থেকে সাদা ইউরিয়া ৮৩০ টাকা পাইকারি মূল্যে প্রতি বস্তা ক্রয় করেছি, আর ডিএপি সারের ব্যাপারে জানতে চাইলে তিনি অন্যান্য ব্যবসায়ীদের মত একি কথা বলেন। একই চিত্র ধোবাউড়া উপজেলার প্রতিটি বাজারে লক্ষ্য করা গেছে। যেখানে মাননীয় প্রধানমন্ত্রী জননেত্রী শেখ হাসিনার কৃষি বান্ধব সরকার কৃষকদের মাঝে সুলভ মূল্যে কৃষি উপকরণ পৌঁছে দেয়ার অঙ্গীকারাবদ্ধ সেখানে ধোবাউড়ায় সাধারণ কৃষক জিম্মি হয়ে পরেছে এক মাজহারুল ইসলাম ও অবৈধ সিন্ডিকেটের কবলে। এ যেন মগের মুল্লুক দেখার কেউ নেই। অথচ দায়িত্বে থাকা ধোবাউড়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তারা যেন নাকে তেল দিয়ে ঘুমাচ্ছেন, নাকি তাদের কারসাজিতে ধোবাউড়ায় এই ধরনের অবৈধ সিন্ডিকেট পরিচালিত হচ্ছে সাধারণ কৃষক জানতে চায়। এ ব্যাপারে উপজেলার সর্বস্তরের মানুষ অতি শীগ্রই যথাযথ কর্তৃপক্ষের মাধ্যমে এর উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহনের দাবি জানিয়েছেন। উপরোক্ত অভিযোগ সম্পর্কে জানতে চাইলে মাজহারুল ইসলাম বলেন আমি দুটি ডিলারশিপ ১/ আহসান এন্টারপ্রাইজ এবং ২/ দাদাভাই এন্টারপ্রাইজ চালাচ্ছি ঠিক, তবে আমি সরকার নির্ধারিত মূল্যেই সার বিক্রি করছি। অতিরিক্ত মূল্যের কথাটি অস্বীকার করেছেন। এছাড়াও ঘোষগাঁও ইউনিয়নে সরকার নিয়োগকৃত জুমা এন্টারপ্রাইজ নামে একজন বিসিআইসি সার ডিলার নামে মাত্র রয়েছে। সরেজমিনে গিয়ে জানা যায় যে দীর্ঘ একবছর যাবৎ তিনি কোন সার তার ইউনিয়নে আনে নাই। এমনকি জানা গেছে তিনি সার উত্তোলন না করে অবৈধ ভাবে ডিও বিক্রি করে দেন। অথচ তার ডিলারশিপ বহাল তবিয়তেই রয়েছে। আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় পরিলক্ষিত হয়েছে যে, ডিলারদের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানে সাইনবোর্ড ও সরকার নির্দেশিত খুচরা মূল্য তালিকা লালসালুতে প্রদর্শনের কথা থাকলেও বেশিরভাগ দোকানেই তা পাওয়া যায়নি। এব্যাপারে ধোবাউড়া উপজেলা কৃষি অফিসারের কাছে জানতে চাইলে তিনি বলেন সরকারি নিয়মে সকল ডিএপি সারের মূল্যই সর্বোচ্চ ৮শত টাকা। কেউ যদি অতিরিক্ত মূল্যে বিক্রি করে থাকে আমরা প্রমাণ পেলে উপযুক্ত ব্যাবস্থা গ্রহণ করবো।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category