সর্বশেষ সংবাদ:
ধোবাউড়ায় ইসলামিয়া টেকনিক্যাল বিএম কলেজে পরিক্ষা দিতে পারেনি শতাধিক শিক্ষার্থী দিল্লিতে জুতার কারখানায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহত ৪৩ চলচ্চিত্র শিল্পীদের হাতে আজ পুরস্কার তুলে দেবেন; প্রধানমন্ত্রী এসএ গেমসের চলতি আসরে: নবম স্বর্ণ জিতলো বাংলাদেশ জিজ্ঞাসাবাদ শেষে রুম্পার কথিত প্রেমিক গ্রেফতার করেছে (ডিবি) পুলিশ শুধু বাংলাদেশ নয় বিশ্বের ১৯৫ দেশে উদযাপিত হবে মুজিববর্ষ বিএনপি বিলীন হয়ে যাবে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় পার্টির: জিএম কাদের তারাকান্দা শিক্ষকের সরকার বিরোধী পোষ্ট সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল পেশির বলে দলের নেতা হওয়া যাবে না বলেছেন : ওবায়দুল কাদের অফিসে অনুপস্থিত- দেরি করলে ; বেতন কাটা হবে সরকারী চাকুরেদের

ছাতকের বড়কাপনে মাদকের জমজমাট ব্যবসা, দিশেহারা অভিভাবক

ছাতক প্রতিনিধি:  সম্প্রীতি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের যুব সমাজকে রক্ষা করতে মাদকের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধ ঘোষণা দেয়ার পর সারা দেশে মাদকের লাগাম টেনে ধরতে শুরু হয় প্রশাসনের পক্ষ থেকে মাদক বিরোধী সাঁড়াশি অভিযান।

এই অভিযানের মাধ্যমে দেশের অনেক কুখ্যাত মাদক কারবারি গ্রেফতার ও আইন শৃঙ্খলারক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বন্দুক যুদ্ধে নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।

এতে সফলতার বাহ্ বাহ্ পেয়েছে সরকার ও আইনশৃংখলা রক্ষাকারী বাহিনী। তখন ভয়ে সারা দেশসহ সুনামগঞ্জের অনেক বড় বড় মাদক কারবারি চলে যায় আত্মগোপনে।

কিন্তু বর্তমানে চলমান এই অভিযান শীতল হওয়ায় জেলার ছাতক উপজেলার বড় বড় মাদক কারবারিরা আবারও সক্রিয় হয়ে মাদক ব্যবসায় মনোনিবেশ করেছে। ফলে উঠতি বয়সী যুবকরা বিপদগামী হয়ে উঠছে এবং অভিভাবকরা হয়ে উঠছে দিশেহারা।

একাধিক সুত্র জানা, ছাতক উপজেলার জাউয়া বাজার ইউনিয়নের বড়কাপন গ্রামে চলছে মাদক কেনা বেচার হিড়িক। উপজেলার এই গ্রামটি  মাদকের হাট হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। মাদক বিক্রেতারা হয়ে উঠছে বেপরোয়া। এই গ্রামে রয়েছে চিহ্নিত ২৫ মাদক কারবারী।

তাদের মধ্যে নারীসহ ৭ জনের পরিচয় তুলে ধরা হলো। তাদের মধ্যে দক্ষিন বড়কাপন গ্রামের মৃত জব্বার আলীর ছেলে গউছ মিয়া, সুরুজ আলীর ছেলে জয়নাল ও রাজা মিয়া , রফিক আলীর স্ত্রী কেশন বেগম এবং বড়কাপন বাঘারাই গ্রামের জাফর মিয়া, আমির আলী ও সাবাজ মিয়া।

স্থানীয়রা আভিযোগ করে জানান, এই গ্রামে বহু বছর যাবৎ মাদকের রমরমা ব্যবসা ও জুয়ার আসর চলছে, সুরুজ আলীর ছেলে রাজা মিয়া বর্তমানে মাদক কেনা বেচার দায়ে জেল হাজতে আছে। তবে এ রকম নাকি নতুন নয়। সে নাকি এর আগেও কয়েকবার জেলে কেটেছে। কিন্তু জেলে থাকা অবস্থায় তার মাদক সমরাজ্য  দেখা শুনা করেন তার ভাই জয়নাল।

জেল থেকে বের হয়ে সে আবার মাদক ব্যবসায় জড়িত হয়ে পড়ে। সুত্র আরও জানায়, দক্ষিন বড়কাপন গ্রামের মৃত জব্বার মিয়ার ছেলে গউছ মিয়া ছিলেন বড়কাপন-জাউয়া বাজার লেগুনা স্ট্যান্ডের ম্যানেজার। এই লেগুনা স্ট্যান্ডের পাশে রয়েছে বড় একটি চায়ের দোকান। সেই চায়ের দোকানই মাদক কেনা বেচার স্থল। তার কাছে মাদকের ক্রেতারা মাদক কিনতে গেলে সে এই চায়ের দোকানে বসিয়ে রাখেন এবং তার গোডাউন থেকে দেশী বিদেশী মদ নিয়ে আসে।

সে এতটা চালাক যে তাকে দেখলে বা তার সাথে কথা বললে বুঝার কোন উপায় নেই যে, সে একজন মাদক সম্রাট। মাদক সম্রাট গৌছ মাদক ব্যবসা করতে গিয়ে কয়েকবার জেলে যাওয়ায় প্রশাসনের বড় বড় কর্মকর্তাদের সাথে ভালো সম্পর্ক গড়ে উঠেছে।

ফলে এখন সে প্রকাশ্যে বলে বেড়ায় এবং তাদের এলাকার নামধারী সাংবাদিকের সাথে গভীর ঘনিষ্টতা আছে বলে প্রতিবেদককে জানায়। অভিযোগ রয়েছে, স্থানীয় সাংবাদিক ও প্রশাসনের সাথে ভালো সম্পর্ক থাকায় কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলে না। কারণ উল্টো মিথ্যা মামলা দিয়ে হয়রানী করার কারণে কেউ তার বিরুদ্ধে মুখ খুলতে সাহস পায়না।

সুত্র আরও জানায়, দক্ষিন বড়কাপন গ্রামের রফিক আলীর স্ত্রী কেশন বেগমের বাড়ী বড়কাপন পয়েন্টের রানী এন্ড রীশা ওয়ার্কসপের পাশে ইটের দেয়াল ও উপরে টিনের চালের আস্তরবিহীন ঘর। এই ঘরে কেশন বেগমের সাথে আরো এক মহিলা থাকেন। তারা উভয়ই দীর্ঘদিন যাবৎ গাঁজা বিক্রি করে আসছে। এই মহিলাদের চলাফেরা বেপরোয়া হওয়ায় মান সম্মানের কথা চিন্তা করে কেউ কিছু বলে না।

বড়কাপন বাঘারাই গ্রামের জাফর মিয়া, আমীর আলী, সাবাজ মিয়াদের বিরুদ্ধে দেশীয় চুলাই মদ বিক্রির অভিযোগ এলাকাবাসীর। তারা বহু বছর যাবৎ দেশীয় চুলাই মদের ব্যবসা করে আসায় প্রশাসনের লোকদের সাথে রয়েছে তাদের গভীর সখ্যতা।

স্থানীয় যুবক নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক জানান, প্রশাসনের পক্ষ থেকে এলাকার চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ীদের বিরুদ্ধে কোন পদক্ষেপ নেয়া হয় না এবং তাদের বিরুদ্ধে কেহ কথা বললেই মিথ্যা মামলায় জেলে যেতে হয়।

ফলে কোন মানুষ ভয়ে এদের বিরুদ্ধে মুখ খুলতে নারাজ। তারা আরও জানান, কোন অদৃশ্য শক্তির ইশারায় বছর বছর ধরে চালিয়ে আসছেন মাদক ব্যবসা। আর মাদকের ছোবলে পড়ছে উঠতি বয়সী যুবক, তরুন ও কলেজ শিক্ষার্থীরা।

এদের বিরুদ্ধে র‌্যাব কিংবা ডিবি পুলিশের অভিযান জোরদার করা না গেলে ভবিষ্যত প্রজন্ম শিক্ষার আলো থেকে বঞ্চিত হয়ে মাদকের করাল গ্রাসে নিমজ্জিত হবে।

অথচ পাশেই রয়েছে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ী। তাদের চোখের সামনেই যেন চলছে মাদকের রমরমা ব্যবসা। বড় কর্তাদের সাথে যোগসাজস থাকায় পুলিশ ফাঁড়ীর সদস্যরা মাদকের আস্তানায় অভিযান চালাতে ভয় পায় বলে এক পুলিশ সদস্য জানায়।

এ ব্যাপারে জাউয়াবাজার পুলিশ ফাঁড়ির ইনচার্জ এসআই জহিরুল জানান, আমি ফাড়ীঁতে নতুন এসেছি। খোঁজ খবর নিয়ে এদের বিরুদ্ধে অভিযান চালিয়ে আইনের আওতায় নিয়ে আসা হবে।

এ ব্যাপারে ছাতক থানার ওসি মোস্তফা কামাল জানান, বড়কাপন এলাকায় বার বার অভিযান চালিয়ে মাদক ব্যবসায়ীদের গ্রেফতার করে জেল হাজতে প্রেরণ করেছি এবং মাদকের বিরুদ্ধে আমাদের জিরো টলারেন্স। নিয়মিত অভিযান অব্যাহত আছে।

সংবাদটি শেয়ার করতে নিচের অপশনে ক্লিক করুন

More News Of This Category